অন্যান্য

পাকা কলার উপকারিতা জানলে আপনি প্রতিদিন ১ হালি করা খেতে বাধ্য!

আন্তর্জাতিক বানিজ্যে ফলসমূহের মধ্যে কলার স্থান সর্বোচ্চ।সারা পৃথিবীতে প্রায় একশ জাতের কলার চাষ হয়।বাংলাদেশে প্রধানত অমৃ’তসাগর,সবরি,চাঁপা,চিনি চাঁপা,সি’ঙ্গাপুরী,কবরী,এঁটেকলা ও আনাজী কলা বা কাঁচাকলা চাষ করা হয়।কলাগাছের প্রায় সব অংশই কাজে লাগে-পাকা কলা,কাঁচাকলা,থোড় ও মোচা সবকিছুই খাওয়া যায়।এমনকি কলাপাতা খাওয়া না হলেও তা খাদ্যপাত্র হিসাবে ব্যবহ্রত হয়।

কলার পুষ্টিগু’ন: আমা’দের শরীরের প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পুষ্টি নউপাদানই কলায় পর্যা’প্ত পরিমানে বিদ্যমান রয়েছে।তাই পুষ্টিমূল্যের বিচারে একে সুষম খাদ্য বলা চলে। কলার রয়েছে প্রচুর পরিমানে আমিস,যা প্রানীর দৈহিক ও বু’দ্ধিবৃত্তিক বিকাশে খুবই ভ’মিকা রাখে।এর অভাবে াপুষ্টি দেকা দেয়।শর্করা প্রানীর দৈহিক বৃ’দ্ধিতে সাহায্য করে।অতিরিকÍ শর্করা দে’হে জমা থাকে এবং প্রয়োজনে দে’হে তাপ ও শক্তির যোগান দেয়।চর্বি শর্করার

মতই দে’হে তাপ ওশক্তি উৎপাদন করো’।এটি ত্বকের নীচে জমা থাকে ত্বকের মসৃনতা বাড়ায় এবং দে’হের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে। দে’হের স্বাবাবিক কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণে খনিজ লবন গু’রুত্বপূর্ণ ভ’মিকা রাখেইকছু কিছু খনিজ লবন দে’হের বিভিন্ন অ’ঙ্গ গঠনেও সাহায্য করে থাকে।ভিটামিন বি-১ দে’হের স্বাভাবিক বৃ’দ্ধি সাধন এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সবল ও স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজন।খাবারে এর অভাবে বেরিবেরি রোগ হয়। কলার উপকারিতা:
(১)হাড় গঠনে সহায়কঃ কলায় প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। তাই হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য কলা একটি উপকারী ফল।
(২)পেট ফাঁ’পা সমাধানঃ কলা অ্যান্টাসিডের মত কাজ করে। অর্থাৎ কলা হজমে সহায়তা করে এবং পেট ফাঁ’পা সমস্যা

সমাধান করে। এছাড়াও কলা পাকস্থলীতে ক্ষ’তিকর ব্যাকটেরিয়ার বৃ’দ্ধি রোধ করতে সহায়তা করে। (৩)গ্যাসটিক দূর করেঃযারা নিয়মিত বুক জ্বা’লাপোড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাঁরা প্রতিদিন একটি করে কলা খান ভরা পেটে। কলা বুক জ্বা’লা পোড়া কমায় এবং পাকস্থলীতে ক্ষ’তিকর এ’সিড ‘হতে দেয় না।
(৪)দাঁত পরিস্কার করতে কলাঃপ্রায় দুই মিনিট ধরে কলার খোসা দাঁতের উপর ঘষলে এটি দাঁতের উপরে থাকা ময়লা ও দাগ দূর করে দাঁতকে সাদা করে তুলবে। মিনারেলে ভরপুর কলার খোসা দাঁতকে সাদা ঝকঝকে করে তুলতে পারে। (৫)কলা মন ভালো করে দেয়। কলায় ট্রাইপটোফ্যান আছে যা সেরোটনিনে রূপান্তরিত হয়ে মন ভালো করে দিতে সাহায্য করে। (৬)স্ট্রোক প্রতিরোধ করেঃ কলায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকে যা র’ক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য ভালো। স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্যেও কলা উপকারী। (৭)শরীরে শক্তি যোগায়ঃ কলায় প্রচুর পরিমাণে ক্যালোরী আছে। তাই মাত্র একটি কলা খেলেই অনেক সময় পর্যন্ত সেটা শরীরে শক্তি যোগায়। (৮)শরীরে শক্তির সঞ্চার করেঃঅতিরিক্ত জ্বর কিংবা হঠাৎ ওজন কমে গেলে শরীর দূর্বল হয়ে যায়। এসময়ে কলা খেলে শরীরে

শক্তির সঞ্চার হবে এবং তাড়াতাড়ি দূর্বলতা কে’টে যাব’ে। (৯)র’ক্ত শূন্যতা দূর করেঃকলায় প্রচুর আয়রন আছে যা র’ক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে যারা র’ক্ত শূন্যতায় ভুগছেন তাদের জন্য কলা খুবই উপকারী একটি ফল। (১০)কলায় ফ্যাটি এ’সিডের চেইন আছে যা ত্বকের কোষের জন্য ভালো এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। এছাড়াও এই ফ্যাটি এ’সিড চেইন পুষ্টি গ্রহণ করতেও সাহায্য করে। পাকা কলা সাধারনত টাটকা ফল হিসাবে খাওয়া হয়।খুব সামান্য পরিমানে কলা প্রক্রিয়াজাত করা হয়।বাংলাদেশে পিঠা তৈরিতে কলা ব্যবহার করা হয়।এছাড়াও আইসক্রিম তৈরিতে কলা ব্যবহার করা হয়।কাঁচাকলা এবং কলার থোড় ও মোচা প্রধানত সবজি হিসাবে খাওয়া হয়।সর্বোপরি কলাই একমাত্র ফল যা দেশের ধনী-দরিদ্র সকলেই কমবেশী খাওয়ার সুযোগ পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close