আন্তর্জাতিক

মুসলমানদের আজানে শুধু শব্দ দূষণই হয়না বরং মানুষের অসুবিধাও হয়

ভারতের উত্তর প্রদেশে শব্দ দূষণের কারণ হিসেবে আজান, অখন্ড রামায়ন, কীর্তন, কাওয়ালি প্রভৃতিকে দায়ি করেছে।
শুধু তাই নয় প্রথমিক ভাবে দুটি মসজিদে আজানের সময় মাইক ব্যবহার করার অনুমতিকে নাকজ করে দিয়েছে এলাহাবাদ

আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্টের মতে আজানের সময় মাইক ব্যবহারে শুধু শব্দই দূষণ হয়না, বহু মানুষের অসুবিধা হয়।
এলাহাবাদ হাইকোর্টেরই ২০ বছর আগেকার একটি রায়ের উদ্ধইয়েরসহ শব্দ দূষণরোধ আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের নানা রায়

তুলে ধরেছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। পুরোনো সেই রায়ে বলা হয়েছিল, ‘অখন্ড রামায়ন, আজান, কীর্তন, কাওয়ালি বা অন্য যে কোনো অনুষ্ঠান, বিয়ে প্রভৃতির সময়ে মাইক ব্যবহার করার ফলে বহু মানুষের অসুবিধা হয়।সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে যাতে মাইক ব্যবহার না করা হয়।’এসময়

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‌‘কোনো ধর্মই এটা শেখায় না যে প্রার্থনা করার সময়ে মাইক ব্যবহার করতে হবে বা বাজনা বাজাতে হবে।আর যদি সেরকম কোন ধর্মীয় আচার থেকেই থাকে, তাহলে নিশ্চিত করতে হবে যাতে অন্যদের তাতে বিরক্তির উদ্রেক না হয়।’আরও বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ

অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তির নিজের ধর্ম পালন করার অধিকার আছে ঠিকই কিন্তু সেই ধর্মাচরনের ফলে অন্য কারও অসুবিধা করার অধিকার কারও নেই।’ আরও পড়ুন – বাল্যবিবাহের হারে এশিয়ায় শীর্ষে বাংলাদেশ, করোনাকালে দেশে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের হার বিবেচনায় দক্ষিণ এশিয়ার

দেশগুলোর মধ্যে শীর্ষে বাংলাদেশ। এমনকি বিশ্বে বাল্যবিবাহ বেশি এমন ১০টি দেশের তালিকাতেও উঠে এসেছে বাংলাদেশের নাম। এমন অবস্থাকে অশনি সংকেত বলছেন বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি উত্তরণে তৃণমূল পর্যায়ে হতদরিদ্র পরিবারগুলোর মাঝে আর্থিক প্রণোদনা, জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু আর বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের কঠোর বাস্তবায়নের তাগিদ তাদের। ফিরোজা

খাতুনের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নটা নিমিষেই শেষ হয়, যখন চতুর্থ শ্রেণীর গণ্ডী না পেরোতেই বাবা-মা তার বিয়ে দেন। এতো অল্প বয়সে কেন বিয়ে? প্রশ্ন ছিলো ফিরোজার মায়ের কাছে। কিন্তু উত্তর আসলো চমকে দেয়ার মতো।ফিরোজার মা বলেন, মানুষ বলে বিয়ের বয়স হয়েছে মেয়ের, বিয়ে দেন না কেন? তাই বিয়ে দিয়ে দিয়েছি শিক্ষক হতে চেয়েছিলেন সাভারের গীতা রানী পাল। কিন্তু নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়। তখন থেকেই

বন্ধ পড়াশোনা। ফিরোজা, গীতার মতো দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ নারী শিশুকালেই কনে হতে বাধ্য হন। যাদের মধ্যে ১৫ বছরেরও আগে বিয়ে হয় ১ কোটি ৩০ লাখ নারীর। বাল্যবিবাহ পরিস্থিতি নিয়ে ইউনিসেফের বার্ষিক প্রতিবেদনে এমন তথ্যই উঠে এসেছে। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপও বলছে, গেল ৩ বছর ধরে দেশে বাল্যবিবাহের হার বেড়েছে। ২০১৭ ও ১৮ তে বাল্যবিবাহের শিকার হয়েছে ৬০ শতাংশ নারী। গেলো ছয় মাসে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে বলে দাবি উন্নয়নকর্মীদের। ইউনিসেফ কনসালটেন্ট পুলিক রাহা বলেন, কোভিড আসার পরে

পরিবারগুলো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে ফলে তারা মেয়েদেরকে বিয়ে দিতে শুরু করলেন। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনে ২ বছরের সাজা আর ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। আইনজীবীদের দাবি, আইন থাকলেও অভিযোগ নিয়ে থানায় যায় না কেউ। এতে অপরাধীরা থাকছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। আইনজীবী মিন্টু কুমার বলেন, কোন মামলা দেখা যায় না আদালত পর্যন্ত এসেছে। হাতে গোনা দুই একটা হতে পারে।

প্রশাসনের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে, ২০২১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহের হার এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না বলে মনে করছেন তারা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close