আন্তর্জাতিক

চায়না: মাত্র ৩০ বছরে ‘পৃথিবীর কারখানা’ হয়ে ওঠার গল্প!

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য অসংখ্য পণ্যের গায়ে যে লেখাটা আমরা সবচেয়ে বেশি দেখে থাকি তা হলো ‘মেইড ইন চায়না’। পৃথিবীর সিংহভাগ পণ্য কেন চায়নায় উৎপাদিত হয় তা

জানাবো আমাদের এই প্রতিবেদনে। চায়না পৃথিবীর সবচেয়ে জনবহুল দেশ। এর জনসংখ্যা প্রায় ১৪৪ কোটি। এত বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার এই দেশের অর্থনীতিতে গত ৩৮ বছরে

আকাশ-পাতাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭৮ সালের চায়নার জিডিপি ছিল ২০০ বিলিয়ন ডলারের, যা বিশ্বের মোট জিডিপির মাত্র ৪ শতাংশ। আর বর্তমানে চায়নার জিডিপি ১১ ট্রিলিয়ন ডলারের, যা বিশ্বের মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ। এত বিপুল

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণ হলো চায়না এখন ‘পৃথিবীর কারখানা’। ঠিক এই মূহুর্তেও আপনি চায়নায় উৎপাদিত পণ্য ব্যবহার করছেন। স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ট্যাবলেট যে ডিভাইস থেকে আপনি এই প্রতিবেদনটি পড়ছেন, নিশ্চিতভাবেই বলা যায় সেটি সম্পূর্ণ অথবা আংশিক ভাবে চায়নায় উৎপাদিত।চায়নার অর্থনৈতিক উন্নয়নের

যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। মাওসেতুং এর মৃত্যুর পরে চায়না কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে আসে ‘ডেং জিয়াওপিং’। ডেং ক্ষমতায় আসার পরপরই ব্যাংকক, সিঙ্গাপুর সহ এশিয়ার অন্যান্য শিল্পোন্নত শহরগুলো পরিদর্শন করে চায়নার জন্য এক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যার জন্য কর্মসংস্থান ও

অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য তিনি চারটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলেন। চায়না সমাজতান্ত্রিক দেশ হওয়া সত্ত্বেও, কিছু কিছু খাতকে তিনি ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেন এবং সেইসাথে বিদেশী বিনিয়োগকে স্বাগত জানান।আশির দশকের শুরুর দিকে সমগ্র

চায়না থেকে দরিদ্র লোকজন কাজের সন্ধানে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গুলোতে এসে ভিড় করতে থাকে। কাজের তুলনায় শ্রমিক বেশি হওয়ার কারণে মজুরি কমে যায় ব্যাপক হারে। তৎকালীন সময়ে চায়নায় শিশুশ্রম এবং সর্বনিম্ন মজুরির ব্যাপারে কোন ধরনের আইন ছিল না। আর তাই বিনিয়োগকারীরা নামমাত্র পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেয়ে যায় প্রচুর শ্রমিক। আমেরিকায়

একজন শ্রমিক এক ঘন্টায় যে পরিমান অর্থ উপার্জন করে, সে পরিমাণ অর্থ চায়নার একজন শ্রমিক উপার্জন করে এক সপ্তাহে।
শুধু সস্তা শ্রমিকই নয়, চায়না পৃথিবীর কারখানা হয়ে ওঠার জন্য আরেকটি অন্যতম কারণ হলো এর উৎপাদন ব্যবস্থা। শিল্পোৎপাদন কোনো বিচ্ছিন্ন পরিবেশে বিকশিত হতে পারে না। আর তাই সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় প্রয়োজনীয় কাঁচামাল উৎপাদন, সরবরাহ

ও নিয়ন্ত্রণের এক বিশাল নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে চায়নায়। উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে জড়িত প্রতিটি ধাপের প্রয়োজনীয় সকল উপাদান চায়নায় পাওয়া যায় খুব সহজেই। এককথায় বলা যায় চায়নার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর ব্যবসায়িক বাস্তুসংস্থান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হয়েছে।শিল্পোৎপাদনের শুরুর দিকে

বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চল তাদের নিজেদের পণ্য নিজেরাই উৎপাদন করত। কিন্তু চায়নার এই নামমাত্র মজুরির শ্রমিক এবং সস্তা পরিবহনব্যবস্থা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ উৎপাদনকারীদেরকে চায়নায় বিনিয়োগ ও কারখানা স্থাপনে আগ্রহী করে তোলে। চায়নায়

উৎপাদিত বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে এর উৎপাদিত প্রযুক্তিপণ্যের একচ্ছত্র আধিপত্য রয়েছে বিশ্বব্যাপী।চীনের গুয়াংডং প্রদেশের শেনজেনকে বিশ্বের প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের রাজধানী বলা যায়। বিশ্বে উৎপাদিত সকল ইলেকট্রনিক পণ্যের ৯০ শতাংশ পণ্য ও এর

যন্ত্রাংশ শেনজেনে উৎপাদিত হয়। সনি, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, এ্যপল, ক্যাননের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের পণ্য শেনজেনে উৎপাদন করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button
Close
Close